রোজনামচা -১

আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছি।একটু খিদে খিদে পাচ্ছিলো, তাই মাকে বললাম কিছু একটা করে দিতে। মা রুটি করে দিলো। গরম গরম রুটিতে ঘি মাখিয়ে চিনি দিয়ে খেতে ভালোই লাগছিলো।

খেতে খেতে, কথায় কথায় অনেক কথা বেরিয়ে আসলো। আমাদের পুরোনো বাড়ির কথা, সেই পেরিয়ে আসা সময়ের, পুরোনো দিনেগুলোর কথা, রান্না বান্নার কথা, বাবা, জ্যেঠু, কাকুদের জন্য কিভাবে খাবার বেড়ে রাখা হোতো সেই কথা, আরো কতো কি। খাওয়া শেষ করে, আমি আমার কাজের টেবিলের পাশে রাখা ক্যেবিনেটে কালো কালির কলমটা আর আঁকার খাতাটা খুঁজতে খুঁজতে মা’র কথা শুনছিলাম। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ মা বলল “তোর বাবা যদি আজ থাকতো?”

বাবা মারা গেছে প্রায় দশ বছর হয়ে গেল। আজও মাঝে মাঝে বাবার কথা খুব মনে পড়ে। কষ্ট পাই।

আমি মা’র দিকে না তাকিয়েই বললাম,”কেন?”
মা বলল,”দেখতে পারতো।”
“তোদের সংসার, তোরা কি করছিস।”

আঁকার খাতাটা আগেই পেয়ে গেছিলাম, কলমটাও পেয়ে গেলাম। বিছানার কাছে গিয়ে মা’র কাছে বসে আঁকার খাতাটা খুলে ধরলাম, আমার আঁকা স্বামী বিবেকানন্দের স্কেচ। মা উচ্ছসিত হয়ে বলল,”তুই আঁকা না শিখেও কিভাবে পারিস?” জিগ্গেস করলাম,”ভালো হয়েছে?” মা বলল,”খুব ভালো।” পাতা উলটে আরো কয়েকটা স্কেচ দেখতে দেখতে মা বলল,”তুই দাদুর একটা ছবি এঁকেছিলি, মনে আছে?” আমি খাতাটা বন্ধ করে উঠতে উঠতে বললাম,”তাই?” মা বলল,”হ্যাঁ, পেন্সিল স্কেচ, আমি রেখে দিয়েছি।”

মা উঠে ঠাকুরের আসনের দিকে এগিয়ে গেল,” উঠি, সন্ধ্যে দিতে হবে”। আমিও খাতাটা নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *